ই-পেপার

স্বামীর কাছে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে লঞ্চে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: July 4, 2022

স্বামীর কাছে নেওয়ার কথা বলে বরিশাল থেকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চে এক গৃহবধূকে (২২) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, প্রেম করে এক পোশাক শ্রমিককে বিয়ে করেন তিনি।

পরে সংসার করতে চলে আসেন ঢাকায়। বিয়ের কিছুদিন পরেই বুঝতে পারেন তাঁর স্বামী দেহ ব্যবসায় জড়িত। এরই মধ্যে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি। কিন্তু তাঁকে রেখে অন্য এক নারীর সঙ্গে পালিয়ে যান তাঁর স্বামী। বাধ্য হয়ে বরিশালে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি।

গত ২২ জুন ইব্রাহিম নামের এক ব্যক্তি ভুক্তভোগীর বাড়িতে এসে নিজেকে তাঁর স্বামীর খালাতো ভাই হিসেবে পরিচয় দেন। ভুক্তভোগীর স্বামী এখন চট্টগ্রামে আছেন এবং তাঁকে নেওয়ার জন্য পাঠিয়েছেন বলে জানান। এক পর্যায়ে মোবাইল ফোনে ভুক্তভোগীর সঙ্গে স্বামী পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির আলাপ করিয়ে দেন ইব্রাহিম।

ওই ব্যক্তি বলেন, ভুক্তভোগী ও কন্যাশিশুর জন্য চট্টগ্রামে অপেক্ষা করছেন এবং খালাতো ভাই ইব্রাহিমের সঙ্গে চট্টগ্রামে চলে আসতে বলেন। পরে ২৩ জুন ইব্রাহিমের সঙ্গে লঞ্চের কেবিনে চড়ে বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। রাতেই ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন ইব্রাহিম। ভুক্তভোগীর স্বামীর সঙ্গে চট্টগ্রামে কাজ করেন, এমন পরিচয় দিয়ে আরো দুজন কেবিনে আসেন। পরে তাঁরাও ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন।

পরদিন ভোরে সদরঘাট থেকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে নেওয়া হয় তাঁকে। সেখান থেকে বাসে করে চট্টগ্রামে যান তাঁরা। পরে আকবরশাহ থানা এলাকার অলংকার বাসস্ট্যান্ডে ভুক্তভোগীকে রেখে পালিয়ে যান তিন অভিযুক্ত। পরে আকবরশাহ থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

আকবর শাহ থানার ওসি ওয়ালী উদ্দিন আকবর বলেন, ওই গৃহবধূকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইব্রাহিমসহ তিনজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে নৌ পুলিশ। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি রবিবার সন্ধ্যায় নিশ্চিত করেছেন ওই থানার ওসি।

তিনি বলেন, ‘মামলাটি নৌ পুলিশ তদন্ত করবে। ’ পরে সদরঘাট নৌ পুলিশের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কলটি রিসিভ হয়নি। এ কারণে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন