ই-পেপার

সিআইপি লিটনের বহিষ্কার চায় রাজাপুর আওয়ামী লীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: January 7, 2022

এক নারীর সঙ্গে অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার ভিডিও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম লিটনকে (সিআইপি) দলীয় পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত আবেদন করেছে রাজাপুরের আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ।

গত বুধবার উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের সভাপতি ও সম্পাদকদের স্বাক্ষরিত আবেদনপত্রটি পাঠানো হয়। অনুলিপি দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তকে।

এতে দলীয় গঠণতন্ত্র ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ করা হয়েছে লিটনের বিরুদ্ধে। অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত অবস্থায় নিজেস্ব কেউ এই ভিডিওটি ধারণ করে পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের ম্যাসেঞ্জারে ছড়িয়ে দেয়। ভিডিওটি সর্বত্র ভাইরাল হয়ে যায়।

মো. রফিকুল ইসলাম লিটন উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালী গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হকের ছেলে। সে গালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া পারভেজের ছোট ভগ্নিপতি। রাজধানীর মতিঝিল এলাকার নাহার ম্যানসন এর পঞ্চম তলায় অবস্থিত লিটন ওয়ার্ল্ড লিংক এর মালিক তিনি। রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নয় নম্বর সহসভাপতি পদে রয়েছেন তিনি।

বহিস্কারের আবেদন থেকে জানা যায়, লিটন উপজেলা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে থেকে অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন। এ ছাড়াও সরকারের সিআইপি পদকপ্রাপ্ত একজন রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমনটা আশা করা যায় না। তাই পরবর্তীতে কেউ যেন এমন অপকর্মের সঙ্গে লিপ্ত না হয় তার জন্য লিটনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয় নেতারা।

জানা যায়, রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সহসভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম লিটনের সঙ্গে এক নারীর আপত্তিকর ভিডিও সস্প্রতি ডিজিটাল মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গত দুই সপ্তাহ ধরে মানুষের মুঠোফোনের ম্যাসেঞ্জার, ইমো ও ফেসবুকে আপত্তিকর এ ভিডিও ভাইরাল হয়। এ ঘটনার পরপরই দলীয় কর্মীসমর্থকসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ নিয়ে পোস্টার লিফলেট টানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জিয়া হায়দার খান লিটন বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। করো অপকর্মের দায়ভার দল নিবে না।

ঝালাকঠি জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক তরুণ কর্মকার বলেন, রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হয়ে তিনি যে কাজটি করেছেন, এর দায়ভার দল নেবে না। এ ব্যাপারে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কথা বলতে মো. রফিকুল ইসলাম লিটনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন