ই-পেপার

ভাণ্ডারিয়ায় ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী শিশুর গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: December 18, 2021

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয় উপজেলার পূর্ব পশারিবুনিয়া গ্রামে গৃহপরিচারিকার কাজ করতে গিয়ে গৃহকর্তার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৪ বছরের এক প্রতিবন্ধী শিশু। ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ওই মেয়েটিকে জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। শিশুটির ফুফু ৩ জনকে আসামি করে ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবন্ধী শিশুটির মা অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে ইকড়ি গ্রামের সুলতান মাষ্টারের ছেলে মামূন মুন্সীর বাড়ীতে ৬ মাস পূর্বে প্রতিবন্ধী শিশুটি গৃহপরিচারিকার কাজ নেয়। সেই থেকে ওই মেয়েটির ওপর গৃহকর্তা মামুনের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে। এক পর্যায়ে মামুন মেয়েটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বার বার ধর্ষণ করে।

এতে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে মামুন এর স্ত্রী রোজিনা আক্তার মেয়েটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে বুঝতে পারে সে অন্তঃসত্ত্বা। পরে স্ত্রীর সহায়তায় ধর্ষক মামুন মুন্সি ওই মেয়েটিকে খুলনার একটি হাসপাতালে নিয়ে গর্ভপাত করিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে মেয়েটির স্বজনদের না জানিয়ে চিকিৎসকদের কাছে তথ্য গোপন করে গত ১৬ ডিসেম্বর তাকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করায়।

এ ঘটনায় মেয়েটির ফুফু বাদী হয়ে ১৭ ডিসেম্বর (শুক্রবার) রাতে ধর্ষক গৃহকর্তা মামুন মুন্সি (৩৮) তার স্ত্রী রোজিনা আক্তারসহ ৩ জনকে আসামি করে ভাণ্ডারিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. বজলুর রহমান জানান, পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে শনিবার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পিরোজপুর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভাণ্ডারিয়া থানার অফিসার্স ইন চার্জ (ওসি) মো. মাসুমুর রহমান বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষক মামুন ও তার স্ত্রী এবং অজ্ঞাত নামা ১জনসহ মোট তিন জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারের জন্য যোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন