ই-পেপার

বিষ আর ভেজালে ভরপুর বরিশালের বেকারি খাদ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: August 31, 2022

বিষ আর ভেজালে ভরপুর বরিশালের বেকারীগুলোতে উৎপাদিত খাদ্য সামগ্রী। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ছাড়াও পচা-বাঁসি খাবার এবং কাপড়ের রং দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বেকারি খাদ্য। গত দুদিন ধরে নগরীর বিভিন্ন বেকারি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে এমন প্রমাণ পেয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এজন্য তিনটি নামি-দামি বেকারি প্রতিষ্ঠানকে তিন লাখ টাকা জরিমানাও করেছেন তারা।

প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো- নগরীর সাগরদী এলাকার থ্রি-এস পেস্ট্রি সপ এবং কাউনিয়া বিসিক শিল্প নগরীর ইত্যাদি ফুড প্রোডাক্টস এবং আল-আমিন বেকারি। এদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে মোট তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ঢাকা থেকে আসা সিনিয়র সহকারী সচিব ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ্ মো. সজীব।

বরিশাল সদর উপজেলার নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক (স্যানেটারি ইন্সপেক্টর) মো. জাকির হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় থেকে আসা টিম গত দুই দিনে এই অর্থদণ্ড দিয়েছেন।

নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. জাকির হোসেন জানান, ‘গত দুদিন ধরে বরিশালের বিভিন্ন বেকারি প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের প্রথম দিন মঙ্গলবার নগরীর সাগরদী এলাকায় থ্রি-এস পেস্ট্রিসপে অভিযান পরিচালনা করেন তারা। অভিযানকালে পেস্ট্রিকেট উৎপাদনে পচা, বাঁসি এবং অস্বাস্থ্যকর নিম্নমানের খাদ্য সামগ্রী ব্যবহারের প্রমাণ পান অভিযানকারীরা। এজন্য থ্রি-এস পেস্ট্রিসপকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি সতর্ক করা হয়।

অপরদিকে, ‘অভিযানের দ্বিতীয় দিন বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত নগরীর কাউনিয়া বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। এসময় সেখানকার ইত্যাদি ফুট প্রডাক্টস এবং আল আমিন বেকারির কারখানায় দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ্ মো. সজীব। জরিমানা দেওয়া দুই প্রতিষ্ঠানের মালিক হলেন মো. শাহরিয়ার বশির ও মো. বাদশা ঢালী।

নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. জাকির হোসেন জানান, ‘দুদিনের অভিযানে বেকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অনিয়ম এবং ভেজারের আস্তানা খুঁজে পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে মানুষের জন্য তৈরিকৃত খাবার বিষে ভরপুর। অভিযানকালে আমরা দেখতে পেলাম ইত্যাদি এবং আল আমিন বেকারির কারখানার পরিবেশ একেবারেই অস্বাস্থ্যকর, নোংরা। কেক, সেমাই, বিস্কুট, রুটিসহ প্রতিটি বেকারি খাদ্য সামগ্রী তৈরিতে ভেজাল মিশ্রিত করা হচ্ছে। যে রং কাপরে ব্যবহার করা হয় সেই রং মানুষের খাবার তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার ফেলে দেওয়া হচ্ছে না। মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবারই আবার নতুন করে তৈরি করে বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এমন মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার আমরা খুঁজে পেয়েছি বেকারি দুটিতে। তাছাড়া উৎপাদন করা খাবারের মেয়াদ নিয়েও জালিয়াতি করা হচ্ছে। আজকে যেই খাবারটি উৎপাদন করা হয়েছে সেটার উৎপাদন মেয়াদ লেখা হয়েছে অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগের। আবার প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন সেগুলোও যথাযথভাবে পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও আরও অনেক নিয়ম এবং ভেজাল খুঁজে পাওয়া গেছে ইত্যাদি এবং আল আমিন বেকারিতে। শুধুমাত্র এই দুটি বেকারিই নয়, শতভাগ হালাল এবং স্বচ্ছতার সেøাগ দিয়ে বিক্রি করা থ্রি-এস পেস্ট্রিসপের চিত্রও একই বলে দাবি নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক জাকির হোসেনের।

তিনি বলেন, ‘এসব প্রতিষ্ঠানে যে ধরনের অপরাধ পাওয়া গেছে তাতে তাদের লাখ লাখ টাকা জরিমানা করতে হতো। কিন্তু প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য আইনের সর্বনিম্ন যে ধারাটি রয়েছে সেই ধারায় এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ তিনটিসহ বাকি বেকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন