ই-পেপার

বিতর্কিতদের নিয়ে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ কমিটি, সমালোচনার ঝড়!

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: January 23, 2022

সম্প্রতি মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পরে ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার জিন্নাগড় ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন বিতর্কিত বিবাহিত, মাদক ও হত্যা মামলার আসামিরা। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা জুড়ে চলছে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। অভিযোগ উঠেছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বিতর্কিত নেতা-কর্মীদের কমিটির পদ দেয়া হয়েছে। তাই জিন্নাগড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বিতর্কিত কমিটি সংশোধনের দাবিতে জানিয়েছেন পদবঞ্চিতরা।

নেতাকর্মী সূত্রে যায়, গত ২০ জানুয়ারি চরফ্যাসন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মেহেদী হাসান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এনামুল আহসান আশিব স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জিন্নাগড় ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের পূর্বের কমিটি বিলুপ্ত করে আগামী এক বছরের জন্য ১৮ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।

যার মধ্যে নতুন কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান ২০১৯ সালে জিন্নাগর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড আমিনকান্দি গ্রামের বাসিন্দা আঁখি বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধে আবদ্ধ হন। বিবাহিত হয়েও আবদুল্লাহ আল নোমান জিন্নাগড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগ কমিটির সভাপতির পদ পেয়েছেন।

এদিকে,  প্রেম ঘটিত বিষয় নিয়ে জিন্নাগড় ইউনিয়ন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জামাল মেম্বারের ছেলে মো. সেহেলকে জিন্নাগর চক বাজারের একটি দোকানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই মামলার চার নম্বর আসামি ইমাম হোসেন মঞ্জুকে করা হয়েছে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক।

বাংলাদেশে ছাত্রলীগ গঠণতন্ত্র ৫-এর (গ) ধারা অনুযায়ী বিবাহিত ও  বয়সসিমা ২৯ এর বেশি হলে কোন ব্যক্তি ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান না পাওয়ার কথা থাকলেও বিতর্কিত এই দুই নেতাকর্মীদের ইউনিয়ন ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করে ১৮ সদস্যর কমিটিরর তালিকা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জিন্নাগড় ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সম্পাদক ইমাম হোসেন মঞ্জু বলেন, আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। মানুষ অভাবের কারণে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। কিন্তু আমার বাপের অনেক সম্পদ রয়েছে। আমি বংশীয় পরিবারের ছেলে। আমি কোন মার্ডার মামলার আসামি না। আমার বিরুদ্ধে একটি মহল মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।
কমিটির সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, আমি এখনো বিয়েই করিনি। কেউ বিয়ের প্রমাণ দিতে পারবে না। এ ব্যাপারে আমি আপনার সাথে সামনাসামনি বক্তব্য দিবো। মোবাইলে কোন বক্তব্য দিতে পারবো না।

চরফ্যাসন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, ‘আমরা অনেক যাছাই বাচাই করে এই কমিটি দিয়েছি। যদি তাদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণসহ অভিযোগ থাকে তাহলে নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর টাকার বিনিময়ে তাদের পদে আনা হয়েছে এটা সম্পন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রায়হান আহম্মেদ বলেন, ‘জিন্নাগড় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে যদি এ ধরণের কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন