ই-পেপার

বাউফলে বাদীসহ দুই ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: January 12, 2022

মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় একটি চাঁদাবাজি মামলার বাদীসহ দুই ব্যক্তিকে মামলার প্রধান আসামি এক যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত দুই ব্যক্তিকে গত মঙ্গলবার রাতে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের পশ্চিম ইন্দ্রকুল বটতলা বাজারে ওই ঘটনা ঘটেছে।

আহত দুই ব্যক্তির নাম মাহাবুব আকন (৪০) ও মো. জুয়েল (২৮)। এর মধ্যে মাহাবুব একটি চাঁদাবাজি মামলার (মামলা নম্বর সিআর ১৪২/২১) বাদী। ওই মামলার প্রধান আসামি হলেন সূর্যমণি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনিচুর রহমান হাওলাদার (৩৬)।

স্থানীয় বাসিন্দা ও আহত ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর পশ্চিম ইন্দ্রকুল বটতলা বাজারে একটি দোকানে বসে চা পান করছিলেন মাহাবুব ও জুয়েল। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অনিচুরের নেতৃত্বে চার-পাঁচজনের একটি দল মাহাবুব ও জুয়েলের ওপর হামলা চালায়। ওই সময় মাহাবুব ও জুয়েলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে ওই রাতেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।

মাহাবুব অভিযোগ করে বলেন, তাঁর কাছে বিভিন্ন সময় আনিচুর চাঁদা দাবি করেন। ২০২১ সালের ২৩ মার্চ রাত সাড়ে ১১টার দিকে আনিচ বাহিনী তাঁর ঘরে ঢুকে তাঁকে (মাহাবুব) মারধর শুরু করেন এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করেন। ওই সময় তাঁর ছেলে মো. আসিফ (১৬) প্রতিবাদ করলে তাকে আনিচ বাহিনী তুলে নিয়ে যায় এবং রাত সোয়া তিনটা পর্যন্ত তাঁর ছেলেকে আটকে কয়েক দফায় লোহার রড দিয়ে অমানবিক নির্যাতন করে। দীর্ঘদিন তাঁকে পরিবার-পরিজন নিয়ে পালিয়ে থাকতে হয়েছে।

এ ঘটনায় তিনি মামলা করলে আনিচুরসহ অন্য আসামিদের দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর জামিনে বের হন। এতে আনিচুরসহ তাঁর বাহিনী তাঁর (মাহাবুব) ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে আসছিলেন আনিচুর। ওই ঘটনার জেরে ও মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ওপর আনিচুরের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে।

যুবলীগ নেতা আনিচুর রহমান বলেন, ‘মাহাবুব আমাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। এ কারণে আমার পক্ষের কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে মাহাবুবকে মারতে যান। মাহাবুব মামলা তুলে নিতে রাজি হওয়ায় তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়, মারধর করা হয়নি। আর আমি জুয়েলকে একটি থাপ্পর দিয়েছি।’

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন বলেন, ‘মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন