ই-পেপার

বাউফলে ঘোষণার সাত দিন পর বিএনপির কমিটি স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: December 1, 2021

জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পটুয়াখালী জেলা কর্তৃক বাউফল উপজেলা ও বাউফল পৌরসভা শাখা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করার সাত দিন পর বুধবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি ওই কমিটি স্থগিত করেছে। একই সঙ্গে নতুন করে কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির বরিশালের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী বিলকিস জাহান শিরিনকে। এতে সাধারণ কর্মীরা আনন্দিত।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কাজী মাহবুব আলম মুঠোফোনে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে সদ্য ঘোষিত বাউফল উপজেলা ও বাউফল পৌরসভা শাখা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।

ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের সুপারিশ বাস্তবায়ণ না করে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দলীয় সুত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে শিল্পপতি একেএম ফারুক তালুকদারকে সভাপতি ও মো. সহিদুর রহমান তালুকদারকে সাধারণ সম্পাদক করে বাউফল উপজেলা বিএনপি এবং মো. গোলাম মোস্তফা খানকে সভাপতি ও মো. কবির হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে বাউফল পৌরসভা শাখা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়।

কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সভাপতি ফারুক তালুকদার ঢাকায় অবস্থান করেন। এমনকি ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে এলাকায় আসেননি। ২০১৮ সালে সাধারণ সম্পাদক সহিদুর রহমান মারা যান। এ কারণে দলীয় কার্যক্রম অনেকটা স্থবির হয়ে পড়ে।

সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর বাউফল উপজেলা ও বাউফল পৌরসভা শাখা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। জেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া ও সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্রি স্বাক্ষরিত ওই কমিটিতে মো. শাহজাদা মিয়াকে আহ্বায়ক ও মো. অলিয়ার রহমানকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট বাউফল উপজেলা বিএনপি এবং মো. হুমায়ুন কবিরকে অহবায়ক ও মো. মিজানুর রহমান খোকনকে সদস্য সচিব বাউফল পৌরসভা বিএনপির ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষনা করা হয়।

কমিটি ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির সাধারণ কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের গৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে এ নিয়ে তাঁরা নেতিবাচক লেখালেখি শুরু করে।

স্থগিত হয়ে যাওয়া উপজেলা কমিটির সদস্য ও সাবেক বাউফল পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আপেল মাহমুদ ওরফে ফিরোজ বলেন, ‘পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি ও উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সম্পাদক মিজানুর রহমান ওরফে লিটু এবং বাউফলের সবচেয়ে জনপ্রিয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তসলিম তালুকদারসহ কমিটিতে অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মীদের ঠাই হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি দুটি অসামঞ্জস্য ও বিতর্কিত কমিটি হয়েছে। বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য মো. সহিদুল আলম তালুকদারকে রাখা হয়েছে পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে। আর পৌরসভা বিএনপির আহবায়ক হচ্ছেন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের একজন কাউন্সিলর।

উপজেলা বিএনপির সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক মো. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমাকে আহ্বায়ক কমিটিতে রাখা হয়নি, তাতে কোনো দুঃখ নেই। কিন্তু একজন সাবেক সংসদ সদস্যকে একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের অধীনে রেখে কমিটি ঘোষণা করায় বিতর্কের গৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের গৃষ্টি হয়েছে।’

সদ্য ঘোষিত কমিটি স্থগিত করায় আনন্দিত বিএনপির কর্মী রিকশা চালক মো. আবদুল মমিন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে বিএনপিকে ভালোবাসি। কোনো পদের আশায় না।’ তিনি আশা করেন, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের নিয়ে এখন একটি ভালো কমিটি গঠন হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন