ই-পেপার

বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলীয় রুটে আবার চলবে যাত্রীবাহী জাহাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: December 5, 2021

দীর্ঘ ১০ বছর পর বরিশাল-চট্টগ্রাম রুটে আবার বানিজ্যিকভাবে চলাচল শুরু হচ্ছে যাত্রীবাহী জাহাজ। এরি মধ্যে বরিশাল নদী বন্দরে এসে পৌঁছেছে সমুদ্রগামী ‘এমভি তাজউদ্দিন আহমেদ’ নামক জাহাজটি। পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা জাহাজাটি শুক্রবার ভোররাতে বরিশাল নদী বন্দরে বিআইডব্লিউটিসি’র ঘাটে নোঙর করে। এবারপর আবার শুক্রবার রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে বরিশাল ত্যাগ করেছে জাহাজাটি।

এর আগে সর্বশেষ ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম রুটে বিআইডব্লিউটিসি’র যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নতুন করে উপকূলীয় এই রুটে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচলের উদ্যোগ নৌ পথের যাত্রীদের মাঝে আশার আলো জাগিয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসি’র বরিশাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম থেকে পরীক্ষামূলকভাবে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে এমভি তাজউদ্দিন আহমেদ। ঘন্টায় ১৮ দশমিক ৫২ কিলোমিটার গতিবেগ সম্পন্ন জাহাজটি ১২ ঘণ্টায় প্রায় পৌঁনে তিনশ কিশোমিটার উপকূলীয় পথ পাড়ি দিয়ে শুক্রবার ভোর ৫টায় বরিশাল নদী বন্দরে এসে পৌঁছায়।

যাত্রাপথে হাতিয়ায় এক ঘন্টা যাত্রা বিরতি এবং ভোলার ইলিশার চর গজারিয়া সংলগ্ন মেঘনায় নাব্যতা সংকটের কারণে দুই দফায় তিন ঘণ্টার মতো নোঙর করে রাখতে হয় জাহাজটিকে। যে কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেক সময় পরে বরিশালে এসে পৌঁছেছে জাহাজটি।

পরীক্ষামূলক এই যাত্রাটির ফলাফল বিশ্লেষনসহ সব কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বরিশাল-চট্টগ্রাম নৌরুটে যাত্রীবাহী সার্ভিসটির সময়সূচি ও যাত্রী ভাড়া নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল কার্যালয়ের প্রধান কর্মকর্তা কে.এম ইমরান। তবে কবেনাগাদ সার্ভিসটি বাণিজ্যকভাবে চালু হবে সে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।

এই কর্মকর্তা বলেন, ‘চট্টগ্রাম থেকে বরিশালে ছেড়ে আসা জাহাজ এমভি তাজউদ্দিন আহমেদ-এর দৈর্ঘ প্রায় ১৯৭ ফুট এবং প্রস্থ ৩৯ দশমিক ৩৬ ফুট। সাতশ যাত্রী ধারণক্ষম জাহাজটি পরিচালনা এবং যাত্রীসেবায় বিআইডব্লিউটিসি এবং বিআইডব্লিউটিএ’র বাণিজ্য, মেরিন ও প্রকৌশল শাখার বেশ কিছু কর্মকর্তা রয়েছেন। যারা পরীক্ষামূলক যাত্রায় ছিলেন।

বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, ‘১৯৬৪ সালে তৎকালীণ পূর্ব পাকিস্তান শিপিং কর্পোরেশনের পশ্চিম জার্মানী থেকে সংগৃহীত চারটি নৌযানের সাহায্যে বরিশাল-নরায়নগঞ্জ-চট্টগ্রাম ও বরিশাল-হাতিয়া-স্বন্দ্বীপ-চট্টগ্রাম রুটে উপকূলীয় যাত্রীবাহী স্টিমার সার্ভিস চালু করা হয়।

এসব নৌযানের মধ্যে ‘এমভি মনিরুল হক’ ও এমভি আবদুল মতিন’ ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে পুনর্বাসন করা হয়। কিন্তু নানা কারণে এই নৌযান সার্ভিস বেশীদিন স্থায়ীত্ব পায়নি। ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলীয় রুটের সার্ভিসটি বন্ধ হয়ে যায়।

সূত্রে জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উপকূলীয় নৌযোগাযোগ নির্বিঘ্ন করতে ৭০০ এবং ৫০০ যাত্রীধরণ ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি উপকূলীয় নৌযান সংগ্রহণের লক্ষ্যে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর ৫০ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকার ডিপিপি একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।

এক বছর পর উপকূলীয় নৌযান এমভি তাজউদ্দিন আহমদ নির্মাণের লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিসি’র সাথে ‘থ্রি এ্যাংগেল মেরিন লিমিটেড এন্ড দি কুমিল্লা শিপ বিল্ডার্স লিমিটেড জেভি’র সাথে ১৭ কোটি ৬৪ লাখ টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এরপর গত ৫ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘এমভি তাজউদ্দিন আহমদ’ নামের জাহাজটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন