ই-পেপার

পাহারাদারকে বেঁধে রেখে মার্কেটে চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: January 5, 2022

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী বাসষ্ট্যান্ডের নীলখোলা এলাকার বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশের একটি মার্কেটের ৯টি দোকানে মঙ্গলবার গভীর রাতে চুরি সংঘটিত হয়েছে। একটি ৫ টনী ট্রাকযোগে ১৮-২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল এসে ওই মার্কেটের পাহারাদারের হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে রেখে মার্কেটের দোকানগুলোতে ওই ঘটনা ঘটায়।

প্রত্যক্ষদর্শী পাহারাদার আহাম্মেদ বেপারী (৫৫) জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের মাদারীপুর ফরিদপুরের দিক থেকে একটি বড় ট্রাক তাদের মার্কেটের সামনে এসে থামে। এ সময় তিনি মার্কেটের সামনে একটি কাঠের চৌকির ওপর বসেছিলেন। তখন ট্রাকটির চালক ও হেলপার বেশী দুই ডাকাত ট্রাক থেকে নেমে এসে কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে জাপটে ধরে মুখের মধ্যে গামছা গুজেদিয়ে তার হাত-পা ও চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে।

একই সময় ট্রাক থেকে নেমে আসে আরো ১৭-১৮জন ডাকাত। তারা তাকে বেঁধে রেখে মার্কেটের ৯টি দোকানের গেট, শার্টার ও কেচিগেটের তালা ভেঙ্গে দোকানগুলো থেকে অল্পকিছু নগদ টাকা, প্রায় ৫০ হাজার টাকার অটো’র ব্যাটারী. সিসি ক্যামেরার নানা উপকরন ও একটি কম্পিউটারসহ লক্ষাধীক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

পাহারাদার আহাম্মেদ বেপারী আরো জানান, ডাকাত চলে যাওয়ার পর তিনি হামাগুড়ি দিয়ে ঘসাঘসি করে তার চোখ মুখের বাঁধন খোলার চেষ্টা করেন। এতে চোখ ও মুখের বাধন একটু হালকা হয়। রাত ৪টা ২০ মিনিটের দিকে ওই সড়ক ধরে নিজের মাহিন্দ্রা নিয়ে যাত্রী সংগ্রহে বের হন ডাকাতির ঘটনাস্থলের উত্তর পাশের সুন্দরদী গ্রামের বাসিন্ধ মোঃ সোহাগ ঘরাসী (৩৫)। তাকে দেখে তিনি চিৎকার করে উঠলে মাহিন্দ্রা চালক সোহাগ ঘরামী এসে তার হাত-পা ও চোখ-মুখের বাঁধন খুলে দেন।

মাহিন্দ্রা চালক সোহাগ ঘরামী জানান, পাহারাদার আহাম্মেদ বেপারীর হাত-পা ও চোখ-মুখের বাঁধন খোলার পর তিনি সোহাগ ঘরামীকে জানান যে, একদল ডাকাত তাকে বেঁধে রেখে মার্কেটে ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে। এর পর তিনি মোবাইল ফোনে মার্কটের ব্যবসায়ীদেরকে ডাকাতির ঘটনা জানান। ব্যাবসায়ীরা এসে দেখেন যে, মার্কেটের ৯টি দোকানের তালা ভাঙ্গা ও দোকানের শাার্টার, কেচিগেট খোলা ও কিছু মালামাল নেই। বেশকিছু মালামাল ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় পড়ে আছে।

ডাকাতির শিকার হওয়া দোকান ৯টি হল- ফয়সাল এন্ড ব্রাদার্স ঢেউ টিনের দোকান, এলাহী স্যানেটারী এন্ড হার্ডওয়্যার কর্নার, গাউছিয়া পান আড়ৎ, সালাম ঘড়ামীর নাবিস্কো বিস্কুটের ডিলারশিপের ২টি গোডাউন, লালচাঁন ভূইয়ার একটি ইজিবাইক ও অটোর ব্যাটারীর দোকান, রিফাত ষ্টোর নামের একটি মুদি দোকান, দিপু মাঝির প্যারাসুট নারকেল তেল ও মাম পানির ডিলারের দোকান, বোম্বে সুইট্স ও সেভেন আপ, পেপসির একটি ডিলারশিপের দোকান।

ক্ষতিগ্রস্থ ব্যবসায়ীরা জানান, ডাকাতির খবর পেয়ে গৌরনদী মডেল থানা পুলিশ বুধবার সকালে দুইদফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. আফজাল হোসেন বলেন, চোরেরা দোকানগুলোর তালা ভাংলেও একটি কম্পিউটার ছাড়া তেমন কিছু নিতে পারেনি। দোকানগুলোতে তেমন কোন দামি মালামাল ছিলনা। ফলে এটি বড় ধরনের কোন চুরির ঘটনাও না। এ ঘটনায় এখনও কেউ থানায় অভিযোগও করেনি।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন