ই-পেপার

নির্মাণের চার মাসেই বেহাল কুয়াকাটা বিকল্প সড়ক

এ.এম মিজানুর রহমান বুলেট, কলাপাড়া | আপডেট: November 29, 2021

পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা যাওয়ার বিকল্প সড়ক। মাত্র চার মাস আগে নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে এ সড়কের কোন কোন স্থানের কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোন স্থানে সড়কের দু’পাশ দেবে গেছে। আর প্রতিনিয়তই ঘটছে কোনো না কোন দুর্ঘটনা।

এছাড়া বালিয়াতলীর সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে এখন খানাখন্দে ভরা। ফলে অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ পর্যটকবাহী যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আর গত জুন মাসে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে নির্মাণ কাজটি পরিচালিত হয়েছে। নির্মাণ কাজের শুরুতেই ঠিকাদার নিন্মমানের সমগ্রী দিয়ে কাজ বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এলজিইডি তথ্যমতে, সড়কটির ধারন ক্ষমতা ১০ টন। কিন্তু ধান ব্যাবসায়ীরা ২০-২৫ টন ট্রাক দিয়ে পন্য পরিবহনের ফলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মূলত সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতুতে টোল না থাকায় এই সড়ক দিয়ে ভারি যানবাহন প্রবেশ করছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহীম বলেন, বালিয়াতলীর বৈদ্যপাড়া চৌরাস্তার কাছে একটি অংশ এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যেখানে প্রতিদিনই কোনো না কোন দুর্ঘটনা ঘটছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে সড়কটি তৈরি করায় অল্প সময়েই এই অবস্থা হয়েছে।

অপর বাসিন্দা ইউসুফ ডাকুয়া বলেন, নিম্মমাণের কাজের জন্য চার মাস যেতে না যেতেই এ সড়কটির বেহাল দশা হয়েছে। এর ফলে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, পর্যটকসহ স্থানীয়রা। তাই সড়কটি দ্রুত মেরামতের দাবি জানান এলাকাবাসী।

বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারমান মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ধান ব্যাবসায়ীরা অতিরিক্ত পন্য পরিবহনের ফলে সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে। ৫-৭ টনের বেশি ভারি ট্রাক চলাচলে জন্য নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু একটি মহল তা মানছে না। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এলজিইডি প্রকৌশলীকে জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মহর আলী বলেন, সড়কটি পরিদর্শন করে দেখেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন