ই-পেপার

দুই কোটির অধিক টাকা নিয়ে উধাও আরএম গ্রুপ

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: December 1, 2021

দেড় শতাধিক চাকরিপ্রার্থী, ৬০ জন কর্মচারি আর ৯টি সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই কোটির অধিক টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে আরএম গ্রুপ নামের একটি রিসেলার প্রতিষ্ঠান। তারা বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জামানত, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পন্য, গাড়ি ভাড়া ও বাড়ি ভাড়া না দিয়ে পালিয়ে যায় কোম্পানীটি।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছে, ৬০ জন কর্মচারি, পারটেক্স, ওয়ালটন, এমইপি, টিসিএল, শাওমি, নোকিয়াসহ ৯টি কোম্পানী এবং দেড় শতাধিক চাকরি প্রত্যাশী এই প্রতারণার শিকার হন। বরিশাল নগরীর রূপাতলী হাউজিং এলাকার হিরন পয়েন্ট-২ ভবনের ভাড়া বাসায় অবস্থিত অফিসে বুধবার (১ ডিসেম্বর) সকালে কাজে যোগ দিতে গেলে অফিস বন্ধ পায় চাকুরীপ্রার্থীরা। এরপরই বিষয়টি জানাজানি হয়।

ভুক্তভোগী বৃষ্টি খন্দকার জানান, পত্রিকায় আরএম গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন পদে আকর্ষণীয় বেতনে লোকবল নেওয়ার বিজ্ঞাপন দেখতে পান। পরে তিনি নিজ পরিবারের বেকার চার সদস্যের জন্য চাকুরীর আবেদন করেন। আবেদনের পর চাকরি পেতে ২৫ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হবে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির জিএম আমজাদ হোসেন কিরণ ও ম্যানেজার তুষার খান। নির্ধারিত জামানত দিয়ে বুধবার সকালে চাকরিতে যোগদান করতে গেলে তিনি দেখতে পান প্রতিষ্ঠানটি উধাও হয়ে গেছে। সুদৃশ্য সাইনবোর্ডগুলোও খুলে ফেলা হয়েছে।

নাসির উদ্দিন নামে আরেকজন বলেন, কোম্পানীর কাজ চালানোর জন্য আমার কাছ থেকে তিনটি মোটরসাইকেল ভাড়া নেয় মাসিক ৫০ হাজার টাকা চুক্তিতে। আর আমাকে একটি মোটরসাইকেল দিবে মর্মে ৫০ হাজার টাকা জামানত নেন। আমি ভাড়াও পাইনি, জামানতও গেছে। আরো দুটি প্রাইভেটকার তারা ভাড়া এনেছিল।

চাকরির জন্য জামানত দেওয়া নাইম হোসেন বলেন, চাকরির দেওয়ার নামে জামানত দিতে বলে কোম্পানীর জিএম আমজাদ হোসেন কিরন। আমি ২৫ হাজার টাকা জামানত দেই। ১ ডিসেম্বর কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। এসে দেখি তারা পালিয়েছে। তারা পত্রিকায়ও বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেছে।

ওয়াল্টন গ্রুপের ডিলার লিঙ্কন বলেন, আমাদের কাছ থেকে এসি, ফ্রিজ নিয়েছে কিন্তু কোন টাকা দেয়নি। ঝালকাঠি সদরের পারটেক্স ফার্নিচারের স্বত্ত্বাধিকারী বিকাশ বিশ্বাস জানান, অফিসে ফার্নিচার লাগবে বলে আমার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকার ফার্নিচার আনেন। ১৪ নভেম্বর ৮ লাখ টাকার একটি চেক দেন। তা ব্যাংকে জমা দিলে জানায় ৩শ টাকা আছে।

তিনি বলেন, বুধবার সকালে টাকা আদায়ের জন্য অফিসে গেলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পাওনা টাকার জন্য মালিকদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তা তারা রিসিভ করেন নি।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েকদিন আগে থেকেই অফিসের যাবতীয় মালামাল কুরিয়ার সার্ভিসে টাঙ্গাইলে পাঠিয়ে দিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের লোকজন। ভবনের ম্যানেজার আবু তালেব জানান, নভেম্বরের শুরুতে ভবনটিতে ভাড়া উঠেছিল প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু তাদেরও টাকা না দিয়েই পালিয়েছে। এছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল বাকিতে নিয়ে টাকা পরিশোধ করেননি। এর বিপরিতে চেক প্রদান করলেও ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় ওই চেক প্রত্যাখ্যান হয়। তাদের একাউন্টে রয়েছে মাত্র ৩শ’ টাকা।

জানা গেছে, আরএম গ্রুপের মালিক আমজাদ হোসেন কিরনের বাড়ি যশোরের বিবি রোডের ঘোষপাড়া এলাকার জয়নাল আবেদিনের ছেলে। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজীমুল করিম বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এখনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন