ই-পেপার

ঝালকাঠির বহুতল ভবনে নেই অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: January 11, 2022

ঝালকাঠিতে বেশিরভাগ বহুতল ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ও জরুরী এক্সিট পয়েন্ট নেই। যার ফলে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। আগুনে মালামালসহ পুড়ে যায় ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন অনেকে। অভিযোগ রয়েছে, বহুতল ভবন নির্মাণের সময় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিসেন্স কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিচ্ছেন ভবন মালিক।

ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের দাবি, শুধু বহুতল ভবনেই নয়, অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা নেই বেশিরভাগ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও। এমনকি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাঝে কমপক্ষে তিন ফুট দূরত্ব রাখার বিধান থাকলেও তা রাখা হচ্ছে না। ফলে অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সঠিক স্থানে রাখা যায় না। এতে আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সময় বেশি লাগে।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মো. ফিরোজ কুতুবী জানান, ঝালকাঠিতে তিনতলা পর্যন্ত ভবনের অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের। পৌর এলাকায় ছয় তলার ওপরের ভবন নির্মাণ করা হলে ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকেও প্লান ও অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু ঝালকাঠির বাসিন্দারা বেশিরভাগই নিয়ম মানছেন না। প্রাথমিকভাবে তাদের শতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। এর পরেও আইন অমান্য করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বহুতল ভবন মালিকদের প্লান বাতিল করা হবে।

এদিকে বহুতল ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা ও জরুরী এক্সিট পয়েন্ট না থাকায় মঙ্গলবার দুপুরে শহরে জেলা প্রশাসন ও ফয়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে যৌথভাবে অভিযান চালায়। এ সময় চন্দ্রদীপ ফার্ণিচার নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি বহুতল ভবনের মালিকদের অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রাথমিকভাবে অভিযান পরিচালনাকারীরা ভবনের মালিক ও ভাড়াটিয়াদের শতর্ক করে দেন। অভিযানের নেতৃত্বে দেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) মো. বশির গাজী।

শহরের সড়কের যৌথ মালিকানাধীন একটি সাততলা ভবনের মালিকপক্ষের একজন মাহাবুবুল হক মামুন বলেন, ভবন নির্মাণের সময় এ বিষয়ে কোন বাঁধা আসেনি। ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি নিতে হবে, তা-ও জানা ছিল না। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা এসে ভবনটি দেখে গেছেন, তারা কিছু ক্যাটাগরি দিয়েছেন। আমরা সে অনুযায়ী ভবনে অগ্নিনির্বাপনের ব্যবস্থা করবো।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর (আরডিসি) মো. বশির গাজী বলেন, লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের পরেও মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হয়নি। বহুতল ভবনে অবশ্যই অগ্নিনির্বাপন ব্যবস্থা থাকতে হবে। অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপন আইন ২০০৩ বাস্তবায়নে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। একজনকে জরিমানাও করা হয়েছে। অন্যদের শতর্ক করা হচ্ছে। এ অভিযান অব্যহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিদর্শক মো. আব্বাস উদ্দিন বলেন, আমরা ঝালকাঠি শহরে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবনে গিয়ে দেখেছি, তাদের ফায়ার সার্ভিসের কোন ছাড়পত্র নেই। অগ্নিনির্বাপন কোন ব্যবস্থাও রাখেননি ভবন মালিক। একটি ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুতের সংযোগও রয়েছে, দেখলাম। তাদের প্রাথমিকভাবে শতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তারা আইন না মানলে পরবর্তী অভিযানে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন