ই-পেপার

জাল দলিলে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তার ‍ঋণ গ্রহণ, আদালতে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: November 23, 2021

বরিশাল নগরীর সাগরদী টিয়াখালী এলাকায় স্বাক্ষর জাল করে জমি বিক্রি এবং ভুয়া দলিল দিয়ে ব্যাংক লোন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় জমির প্রকৃত মালিক দাবিদার একই এলাকার বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম (৯০) বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

গত ২২ নভেম্বর বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে ৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/৪২০ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় অগ্রণী ব্যাংক রূপাতলী শাখার কর্মকর্তা এবিএম মনির হোসেন (৫৯) কে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্ত ব্যাংক কর্মকর্তা এবিএম মনির হোসেন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার জুরকাঠী গ্রামের মৃত আদম আলী জোমাদ্দারের ছেলে এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সাগরদি টিয়াখালী এলাকার বাসিন্দা।

বাদী মামলায় উল্লেখ করেছেন, ‘সাগরদী মৌজায় এস.এ ১২১২নং খতিয়ানের হজাল ২৩৭২ এবং ২৩৭৩ নং দাগে মোট ৫৭ শতাংশ জমির মালিক আনোয়ারা বেগম। এ সম্পত্তি পিতা মরহুম হাকিম আলী হাওলাদারের নিকট হতে উত্তরাধীকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে ভোগ দখল করছেন। যার কোন অংশ বিক্রি বা আম-মোক্তারনামা দলিল দেননি তিনি।

অথচ ১৯৯৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জাল জালিয়াতির মাধ্যমে সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের সহায়তায় মোট সম্পত্তি থেকে তিন শতাংশ জমি নিজের জাল দলিল গৃজিত করেন বিবাদী ব্যাংক কর্মকর্তা এবিএম মনির হোসেন। যার দলিল নম্বর ৮৪২। এমনকি ওই দলিল ব্যবহার করেই অবৈধভাবে অগ্রণী ব্যাংক থেকে লোন গ্রহণ করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ‘জাল দলিলের ক্ষেত্রে জমির প্রকৃত মালিকের বাবার ভুয়া নাম ব্যবহার করা হয়েছে। বাদীর বাবার নাম হাকিম আলী হাওলাদার হলেও ওই ভুয়া দলিলে মৃত হাচেন আলী হাওলাদার উল্লেখ করা হয়েছে। যা পুরোটাই জালিয়াতি।

বাদী অভিযোগ করেন, ‘চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বিবাদী এবিএম মনির হোসেন অগ্রণী ব্যাংকের কয়েকজন লোক নিয়ে বিরোধীয় জমি মাপ-জোপ করতে যান। জানতে পেরে বাদী আনোয়ারা বেগম বাধা দিলে গেলে জাল দলিল প্রদর্শন করে জমির মালিকানা দাবি করেন ব্যাংকার মনির। এসময় জমি জাল দাবি করলে বাদীকে হুমকি প্রদান করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ অভিযোগ মামলা করে সুবিচার দাবি জানান বাদী।

অপরদিকে, ‘বাদী অভিযোগ করেছেন, ‘ব্যাংক কর্মকর্তা জাল জালিয়াতির মাধ্যমে শুধু জমিই দখল করতে আসেনি। ব্যাংক কর্মকর্তা হওয়ার দাপটে তিনি ভুয়া দলিল দিয়ে অগ্রণী ব্যাংক থেকে মোটা অংকের লোন গ্রহণ করেছেন।

দলিলে বাবার নাম ভুল থাকা সত্যেও সেটা তদন্ত না করেই ওই ব্যাংকার ভুয়া দলিলের বিপরিতে লোন গ্রহণ করেন। তাছাড়া জাল জালিয়াতির পেছনে শুধু ব্যাংক কর্মকর্তাই নন, সাব রেজিষ্ট্রার অফিস সংশ্লিষ্টদের যোগসাজস রয়েছে বলে অভিযোগ বাদীর।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন