ই-পেপার

চিরতরে ডায়াবেটিস থেকে মুক্ত হওয়ার উপায়

বিএসএল নিউজ ডেস্ক: | আপডেট: November 14, 2021

ভারতের বেঙ্গালুরুর ৪৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিবিদ বিক্রম কুলকার্নির ২০১১ সালে ডায়াবেটিস ধরা পড়েছিল। কুলকার্নি বলেছেন, ‘আমার ডায়াবেটিস ধরা পড়ায় আমি আশ্চর্য হইনি কারণ আমার বংশে ডায়াবেটিস রয়েছে এবং আমিও একটা দুশ্চিন্তাময় সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম।’

এরপর তিনি ওষুধ খেতে থাকেন এবং খাদ্যাভ্যাসের পছন্দগুলোও পরিমিত ছিল। শুয়ে বসে থাকার মতো জীবনও ছিল না তার। কয়েক বছর পরে, যখন ওষুধ গ্রহণের পরেও তার রক্তে শর্করার মাত্রা কিছুতেই কমছিল না, তখন তার ডাক্তার ওষুধের মাত্রা বাড়িয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘ঠিক তখনই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে এই অবস্থাটি আমার জীবনকে যেন না চালায়। আমি নিয়মিত সাইকেল চালিয়েছিলাম এবং আমার খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দিতে শুরু করেছিলাম। সচেতনভাবে খাবার খাওয়া এবং প্রতিদিনের হাঁটার কারণে আমি আমার ডায়াবেটিসের মাত্রা পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছি এবং গত দুই বছর ধরে ওষুধ বন্ধ রেখেছি।’

বিক্রমের মতো হাজারো ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন যারা তাদের ডায়াবেটিস নিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তারা ডায়াবেটিসের মাত্রা কমানোর লক্ষ্যে পরিশ্রম করতে থাকেন। এতে প্রমাণিত হয়েছে যে, ওষুধবিহীন জীবন কাটানো সম্ভব।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং ডায়াবেটিস অধ্যাপক অশ্বিনী কানাদে বলেছেন, ‘ডায়াবেটিস লোপ পাওয়া’ শব্দের অর্থ ওষুধ সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ রেখে দেহের আদর্শ ওজন বজায় এবং নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপের দ্বারা রক্তের শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক সীমার কাছাকাছি রাখা।’

কীভাবে একজন ব্যক্তি ‘ডায়াবেটিস মুক্ত’ হতে পারে?
ডায়াবেটিস মুক্ত হওয়ার পথে যাত্রা শুরু করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন।

১. খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে আপনার শক্তি গ্রহণ সীমিত করে আপনার অগ্ন্যাশয়ের কার্যকারিতা কিছুটা হলেও পুনরুদ্ধার এবং ডায়েবেটিস লোপ করা যেতে পারে।

২. অন্য আরেকটি গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলগুলো জানিয়েছে, খুব কম ক্যালোরিযুক্ত খাদ্যাভ্যাস অন্তত ছয় মাস ধরে ডায়াবেটিস কম রাখতে সহায়তা করতে পারে।

৩. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত শারীরিক ব্যায়াম করাও জরুরি। ব্যায়াম আপনাকে ওজন কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে।

৪. যদি আপনার ওজন কমানো সত্যিই কঠিন হয়ে পড়ে এবং আপনার ডাক্তার আপনাকে বেরিয়েট্রিক অস্ত্রোপচারের প্রস্তাব দিয়ে থাকেন তবে এটি চেষ্টা করে দেখাই আপনার জন্য ভালো। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পদ্ধতিটির ধরনের ওপর নির্ভর করে বেরিয়েট্রিক অস্ত্রোপচার ডায়াবেটিস উপশমের ৪৫-৯৫ শতাংশ জড়িত।

ডায়াবেটিস মুক্ত হওয়ার পরে কী যত্ন নেওয়া উচিত?

আপনাকে ওষুধে ফিরে যেতে হবে না তা নিশ্চিত করার জন্য আপনাকে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অঙ্গীকার বজায় রাখতে হবে। রক্তে শর্করার স্বাভাবিক মাত্রা দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রেটিনোপ্যাথির মতো ডায়াবেটিস সংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। যদি কোনও জটিলতা ইতোমধ্যে হয়ে থাকে, তবে সম্ভবত অনির্দিষ্টকালের জন্য পর্যবেক্ষণ করা দরকার হতে পারে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন