ই-পেপার

চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির নৈরাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: September 5, 2022

বরিশাল সদর উপজেলার কীর্তনখোলা নদীর পূর্বাঞ্চলের চরকাউয়া বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির কাছে দীর্ঘদিন ধরে জিম্মি হয়ে আছে ওই অঞ্চলের সাতটি রুটের যাত্রীরা। বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়া উপেক্ষা করে নিজেদের নির্ধারিত মনগড়া ভাড়ায় যাত্রী পরিবহন করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সাধারন যাত্রীরা।

ওই রুটের চরকাউয়া থেকে গোমা’র ভাড়া মাত্র ৩৩ টাকা নির্ধারন করা থাকলেও মালিকপক্ষ তা বাড়িয়ে ৫০ টাকা আদায় করছে। এতে করে ১৭ টাকা বেশি নিচ্ছে যাত্রীপ্রতি। এভাবে সাতটি রুটেই ভাড়া বাড়িয়ে নৈরাজ্য করছে বাস মালিকরা।

ভাড়া নৈরাজ্যের পাশাপাশি যাত্রী হয়রানী ও অদক্ষ চালক দিয়ে বাস পরিচালনার কারণে প্রাণ সংশয়ে যাতায়াত করছে হাজার হাজার যাত্রী। অথচ বিআরটিএ বা ট্রাফিক বিভাগের এ নিয়ে মাথা ব্যাথার কারণ দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

আর তাই ভাড়া নৈরাজ্য এবং যাত্রী হয়রানি বন্ধ করা এবং চরকাউয়া বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতি কর্তৃক বাসভাড়া বৃদ্ধির সিন্ধান্ত প্রত্যাহারসহ ছয় দফা দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী যাত্রীরা। সোমবার সকাল ১০টায় সাত রুটের সাধারন যাত্রীদের ব্যানারে বরিশাল নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বিআরটিএ সারা দেশেই বাস ভাড়া বৃদ্ধি করে নতুন ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া বাস মালিক সমিতি বে-আইনীভাবে সাতটি রুটেই বিআরটিএ কর্তৃক নির্ধারিত ভাড়ায় প্রায় দ্বিগুন ভাড়া আদায় করছে যাত্রীদের কাছ থেকে। চরকাউয়া মালিক সমিতির অধিক মুনাফা লাভের আশায় বাস ভাড়া বৃদ্ধি করে যাত্রীদের জিম্মি করে রেখেছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

বক্তারা আরো বলেন, চরকাউয়া সাতটি রুটে ফিটনেসবিহীন অসংখ্য গাড়ি চলাচল করছে। এগুলোর কোনটিতেই দক্ষ চালক নেই। আবার হেলপার দিয়ে চালানো হয় বাসগুলো। এর ফলে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাফভাড়া ও নিয়মিত যাত্রীদের ছাড় দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। অনান্য রুটে এই ব্যবস্থা চালু থাকলেও সাত রুটে তা মানা হচ্ছেনা।

মানববন্ধেন থেকে জানানো হয়, চরকাউয়া থেকে গোমা যেতে সরকারি হিসেবে ভাড়া ৩৩ টাকা। কিন্তু মালিক সমিতি তা নির্ধারন করেছে ৫০ টাকা। একইভাবে চরকাউয়া থেকে লাহার হাট ৩০ টাকা ৮ পয়সা, সেখানে নিচ্ছে ৪০ টাকা, চরকাউয়া থেকে কাটাদিয়া ২০ টাকা হলেও নিচ্ছে ৪০ টাকা, নেহালগঞ্জে ৪০, ডিসি রোড ৯০, হলতা ৫০, টুমচরে ৪০ টাকার ভাড়া নিচ্ছে ৭০ টাকা। এভাবে সাতটি রুটে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক আব্দুস সত্তার, অধ্যাপক মহসিন উল ইসলাম হাবুল, এ্যাডভোকেট এ কে আজাদ, দেওয়ান আবদুর রশিদ নিলু, শহিদুল ইসলাম মিরণ, অধ্যাপক মিজানুর রহমান সেলিম, অধ্যাপক দুলাল মজুমদার, অধ্যাপক জলিলুর রহমানসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এসময় তারা বাসের অতিরিক্ত ভাড়া প্রত্যাহার, যাত্রী হয়রানী বন্ধ, ফিটনেস বিহীন গাড়ী চলাচল বন্ধ, শিক্ষার্থীদের হাফভাড়া, লাইসেন্সপ্রাপ্ত চালক দ্বারা গাড়ী চালনা ও নিয়মিত যাত্রীদের ভাড়া কমিয়ে রাখার দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন