ই-পেপার

গণপরিবহনে নেই তদারকি, স্বাস্থ্যবিধিতে উদাসীনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: January 15, 2022

নতুন ধরন ওমিক্রনসহ দেশের সামগ্রিক করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থায় নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে সরকার। তবে তৃতীয় দিনেও গণপরিবহনে বিধিনিষেধের লেশমাত্র দেখা যায়নি। সর্বত্রই দেখা গেছে স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্ক পরায় উদাসীনতা। বিধিনিষেধ মানাতে সড়কে নেই কোনো ধরনের তদারকিও। শনিবার (১৫ জানুয়ারি) বরিশালের তিনটি বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
দেখা যায়, অধিকাংশ বাসে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি করে উঠানে হচ্ছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষার নীতি মানছেন না যাত্রীদের অনেকে। মাস্ক থাকলেও তা কারও হাতে, কারও পকেটে। অধিকাংশ হেলপার ও চালকের মাস্ক ঠাঁই পেয়েছে থুতনিতে।
দেশে গত কয়েকদিনে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বেড়েছে। শুক্রবার বরিশালে শনাক্তের হার এক লাফে ১১ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে নতুন ধরন ওমিক্রন উদ্বেগ বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় গত ১১ জানুয়ারি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সরকার ১১ দফা নির্দেশনা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা ১৩ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, উন্মুক্ত স্থানে সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সমাবেশ পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখাসহ ট্রেন, বাস ও লঞ্চে সক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী পরিবহন, সব ধরনের যানের চালক ও সহকারীদের করোনার টিকা নেওয়ার সনদ সঙ্গে রাখার কথা বলা হয়েছে।
তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেল সড়ক-মহাসড়কে। দেখা যায়নি কোনো তদারকিও। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত নগরীর রূপাতলী, নথুল্লাবাদ, লঞ্চঘাট, চরকাউয়া বাসস্ট্যান্ড এবং সদর রোড এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, গণপরিবহনে যত্রতত্র যাত্রী উঠানো ও নামানো হচ্ছে। পরিবহনে নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা জীবাণুনাশক স্প্রের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। চালকের সহকারীরা যাত্রী টেনে টেনে বাসে তুলছেন পুরনো অভ্যাসেই। ছোট যানবাহনেও একই অবস্থা।
অধিকাংশ বাসে দেখা যায়, চিরচেনা রূপে দরজায় দাঁড়িয়ে হেলপার যাত্রী ডাকছেন, টেনে তুলছেন। যাত্রীদের কারও মাস্ক থুতনিতে, কারও হাতে, কারও পকেটে। আবার কারও কারও মাস্কই নেই। সব সিটে যাত্রী নেওয়ার পাশাপাশি দাঁড়িয়েও যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। যাত্রী ওঠানো এবং নামানোর ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি।
বরিশাল থেকে আগৈলঝাড়াগামী আঞ্চলিক বাসের চালকের সহকারী সাইফুল আলমের সঙ্গে কথা বলতে চাইতেই তিনি থুতনি থেকে মাস্ক টেনে মুখে তোলেন। তারপর বলেন, বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার আছে, যাত্রীরা চাইলে দেওয়া হয়। যাত্রীদের মাস্ক পরতে বলা হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়া হচ্ছে না। আবার কয়েকটি বাসের হেলপারের মুখে মাস্ক না থাকার কারণ জানতে চাইলে তারা ক্ষেপে গিয়ে বলেন, ‘মাস্ক নেই তো আপনার সমস্যা কি? পুলিশ পাঠান তারা বুঝবে’।
তিনটি বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিধির বিষয়ে আমরা সচেতন রয়েছি। আমাদের চালকদের এ বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু যাত্রীরা সচেতন না। যাত্রীদের সাথে তো আর মারামারি করা সম্ভব না। তার পরেও যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করা হচ্ছে দাবি করে বাস মালিকরা বলছেন, এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা একটু তদারকি করলে সবাই স্বাস্থ্যবিধির প্রতি গুরুত্ব দিবে।
  • ফেইসবুক শেয়ার করুন