ই-পেপার

কলাপাড়ায় শিক্ষকের অপার ভালবাসায় সেলিম মেট্রিক পাশ করেই ছাড়লো

এ এম মিজানুর রহমান বুলেট , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি | আপডেট: January 7, 2022

কলাপাড়ায় লালুয়া ইউনিয়নের চরচান্দুপাড়া গ্রামের সুলতান চৌধুরীর প্রথম সন্তান মো: সেলিম। অভাবের তাড়নায় খাবার জোগাড় করা যখন কষ্টকর, তখন ছেলের লেখা পড়া ছিল দূরূহ ব্যাপার। বাবা সাগরে অন্যের ট্রলারে মাছ ধরায় ব্যস্ত। কিন্তু সংসারের অভাব যেন পিছু হটছে না। এদিকে ছেলের মেধাও শূন্যের কোঠায়। বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি করার পরই লেখাপড়া যখন সমাপ্তির পথে, তখন এগিয়ে আসলেন বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আবুল বাশার। শিক্ষার্থীকে সাহস এবং ভালোবাসা দিয়ে জয় করলেন।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, সেলিম পড়াশোনা করে কোনরকমে জেএসসি পাস করার পর প্রধান শিক্ষকের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের বেতনসহ সমস্ত পাওনা মাফ করে দেয়া হলো। তবুও পড়াশোনায় অনীহা। অভাবেব আর তাকে যেন এগুতে দিচ্ছে না। ২০২০ সালের পরীক্ষার্থী হয়েও ফর্ম ফিলাপ করল না। শিক্ষক বাসার পিছু হটলেন না আবারো শরণাপন্ন হলেন সেলিমসহ ওদের পরিবারের। অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে ২০২১ সালের ফরম ফিলাপ করালেন। ওর সহপাঠীসহ অনেকেই নিরুৎসাহিত করতে লাগলেন। কারণ সেলিম লেখাপড়ায় বরাবরের মতই দুর্বল। সর্বশেষ সেলিম এসএসসি পরীক্ষা দিলো ২০২১ সালে। পাস করলেন জিপিএ ২.০০ পেয়ে। আনন্দে আত্মহারা সকল শিক্ষক। সেলিম বিদ্যালয় আসলে সবাই তাকে স্বাগত জানিয়ে মিষ্টিমুখ করালো। আবারও প্রমাণিত হলো ভালোবাসা দিয়ে সবকিছুই জয় করা সম্ভব। সেলিম তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

এসএসসি পাশ করার পর মো: সেলিম এ প্রতিনিধিকে বলেন, বাশার স্যার আমার বাবার কাজটি করেছেন। স্যার চেষ্টা না করলে কিছুতেই আমি এ অবস্থানে আসতে পারতাম না।

সেলিমের সহপাঠী ফেরদৌস খান এবং মো: নাহিদ এ প্রতিবেদককে জানায়, সেলিম ঠিকমতো স্কুলে আসতে চাইতোনা। বাশার স্যারের চেষ্টায় আজ সে এসএসসি পাশ করছে।

সেলিমের বাবা সুলতান চৌধুরী এ প্রতিনিধিকে জানায়, সাগরে মাছ ধরে চার সন্তান নিয়ে কোনরকম সংসার চালাই। লেখাপড়া কিভাবে চালাবো। বাশার স্যারের চেষ্টায় সেলিম এবং বাকি কন্যাদের স্কুলে ভর্তি করতে পেরেছি।

শিক্ষক আবুল বাশার সাংবাদিকদের বলেন, “স্যার আপনার সেলিম মেট্রিক পাশ করছে, মিষ্টি খাওয়ান” এ আবদার করছিল বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। সেলিমের সংসারের অভাব এবং মেধা কম থাকায় সে স্কুলে আসতে চাইতোনা। এক সময় সবাই বলতো ও পাশ করলে বিদ্যালয়ের চেয়ার-টেবিলও পাশ করবে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। কারণ আমি বিশ্বাস করি চেষ্টা করলে সর্বক্ষেত্রেই সফল হওয়া সম্ভব।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: জুনায়েদ হোসেন খান গনমাধ্যমকে জানায়, সেলিম পাশ করায় আমরা সবাই খুশি। অদম্য চেষ্টা এবং অনুপ্রেরণা দেয়ায় ধন্যবাদ জানাই শিক্ষক আবুল বাশারকে।

###
তাং: ০৭.০১.২০২২ ইং:।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন