ই-পেপার

অতি গরমে রোজার সওয়াব বেশি?

নিজস্ব প্রতিবেদক | আপডেট: April 16, 2023

রমজানের রোজা ফরজ বিধান এবং ইসলামের অন্যতম রোকন। তাই স্বাভাবিকভাবেই রমজানের রোজার সওয়াব অসীম। এরপরও বেশি কষ্টকর আমলের সওয়াব বেশি দেওয়া হয়। রোজাই এর বড় প্রমাণ। স্বাভাবিক ইবাদতের চেয়ে রোজার মর্যাদা অনেক বেশি। সারাদিন খাওয়া-দাওয়া, যৌনসম্ভোগ ও যাবতীয় লোভ-লালসা থেকে বিরত থাকতে হয় একজন রোজাদারকে। তাই রোজাদারকে অনন্য মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে ইসলাম।

ঈমানের সাথে ও সওয়াবলাভের আশায় রমজানের রোজা পালনকারীকে ক্ষমার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে হাদিসে (বুখারি: ১৮৮৭)। ‘রোজাদারের মুখের ঘ্রাণ আল্লাহর কাছে মিশকের চেয়েও সুগন্ধিময়।’ (বুখারি: ১৯০৪, মুসলিম: ২৭৬২)
আরও বর্ণিত হয়েছে ‘অবশ্যই আল্লাহ তাআলা রমজান মাসের প্রতি দিন ও রাতে অসংখ্য ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দান করেন এবং প্রত্যেক মুমিন বান্দার একটি করে দোয়া কবুল করেন।’ (মুসনাদে আহমদ: ৭৪৫০; মুসনাদে বাজ্জার: ৯৬২)

স্বয়ং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে রোজাদারের বিশেষ পুরস্কারের কথা এসেছে হাদিসে কুদসিতে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—

‘নিশ্চয়ই রোজা আমার জন্য এবং এর প্রতিদান স্বয়ং আমিই দিব’ (মুসলিম: ১১৫১/১৬৫)।
আল্লাহর রাসুল (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় একদিন রোজা রাখবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে ৭০ বছরের দূরত্বে রাখবেন।’ (বুখারি: ২৮৪০; মুসলিম: ১১৫৩)

সুতরাং কেউ যদি প্রচণ্ড রোদ-গরম, পরিশ্রমের কাজ অথবা লম্বা দিন হওয়ার পরও কষ্ট করে রোজা রাখেন— তাহলে মহান আল্লাহ তাকে কষ্ট অনুযায়ী বেশি সওয়াব দান করবেন, ইনশাআল্লাহ।

কেননা রাসুলুল্লাহ (স.) ওমরা আদায়ের ক্ষেত্রে উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘তোমার কষ্ট ও খরচ অনুযায়ী তোমাকে সওয়াব দেওয়া হবে।’ (বুখারি: ১৭৮৭; মুসলিম: ১২১১)
এছাড়াও বহু হাদিসে কষ্ট অনুযায়ী বেশি সওয়াবের কথা বর্ণিত হয়েছে, যেমন—

কারও বাড়ি যদি মসজিদ থেকে দূরে হয়, তারপরও কষ্ট করে পায়ে হেঁটে মসজিদে এসে জামাতে সালাত আদায় করে— তার সওয়াবের পরিমাণ বেশি।
কারও কোরআন তেলাওয়াত করা কষ্টসাধ্য হওয়ার পরও পড়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখলে তার জন্য তার দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে।
মক্কা বা মক্কার আশেপাশে অবস্থানকারীদের চেয়ে যারা দূর-দূরান্ত থেকে বহু পথ পাড়ি দিয়ে, বহু কষ্ট করে অনেক টাকা-পয়সা খরচ করে হজ করতে আসে— তাদের সওয়াব বেশি; এতে কোনও সন্দেহ নেই।
এসব বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর নির্দেশ পালনে যদি কারও বেশি কষ্ট-ক্লান্তি ও পরিশ্রম হয় এবং এতে তিনি সওয়াবের আশায় ধৈর্যধারণ করেন, তাহলে সাধারণ আমলকারীর চেয়ে তার সওয়াবের পরিমাণ বেশি হয়। সুতরাং গরমের দিনের কষ্টসাধ্য রোজায় সওয়াব বেশি পাওয়া যাবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রচণ্ড গরমে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন। প্রকৃত রোজাদার হিসেবে কবুল করুন। রোজার পূর্ণ ফজিলত দান করুন। আমিন।

  • ফেইসবুক শেয়ার করুন